মাগুরা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান নরনারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি: প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরকার।  বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব—জাপানে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলতপূর্ণ আমল ও করণীয় বুধবার সকালে মুক্তি পাচ্ছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম: শিশির মনির।    দায়িত্বপালনের মাঝপথে সরে না যেতে প্রধান উপদেষ্টাকে রাজনৈতিক দলগুলোর একতাবদ্ধ আহ্বান। জামিয়ার অভিভাবক সম্মেলনে আসাতিযায়ে কেরামের বিশেষ সম্মাননা।  কালুপারা মাদরসারা মাগুরার অভিভাবক সম্মেলন ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠান। আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলায় রায়: হিটু শেখের ফাঁসি, ৩ জন খালাস—ন্যায়বিচারের গর্বিত মুহূর্ত।

সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসে জবির শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ছত্রভঙ্গ, আহত ৫০ জনের বেশি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / ৫৯৪ বার পড়া হয়েছে
arafatnews24 অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
Spread the love

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায়, ঠিক তখনই পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাসে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে তাদের পদযাত্রা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের তিনটি মূল দাবি—আবাসন বৃত্তি, পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের আহ্বানে এই পদযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন কাকরাইল মসজিদের মোড়ে পৌঁছান, তখন শুরু হয় হামলা। পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ব্যবহার করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন লিমনসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী। আহতদের অনেকেই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ড. রইছ উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এই আন্দোলন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন।

এর আগে ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন তিন দফা দাবি তুলে ধরে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় লংমার্চ।

তিন দফা দাবি সংক্ষেপে:

১. আবাসন বৃত্তি কার্যকর:৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনের সুব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বৃত্তি চালু করা।

২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন:প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো কাটছাঁট না করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন: একনেক সভায় দ্রুত অনুমোদন দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ।

এ ঘটনা কেবল একটি প্রতিবাদের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের প্রতীক। তারা শুধু উন্নত শিক্ষা চায় না, তারা চায় সম্মানজনকভাবে তা অর্জন করতে।

এই আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলে, সেখানেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসে জবির শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ছত্রভঙ্গ, আহত ৫০ জনের বেশি।

আপডেট সময় : ০৪:২৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
Spread the love

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায়, ঠিক তখনই পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাসে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে তাদের পদযাত্রা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের তিনটি মূল দাবি—আবাসন বৃত্তি, পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের আহ্বানে এই পদযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন কাকরাইল মসজিদের মোড়ে পৌঁছান, তখন শুরু হয় হামলা। পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ব্যবহার করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব হোসেন লিমনসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী। আহতদের অনেকেই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ড. রইছ উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এই আন্দোলন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন।

এর আগে ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন তিন দফা দাবি তুলে ধরে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় লংমার্চ।

তিন দফা দাবি সংক্ষেপে:

১. আবাসন বৃত্তি কার্যকর:৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনের সুব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বৃত্তি চালু করা।

২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট অনুমোদন:প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো কাটছাঁট না করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন।

৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন: একনেক সভায় দ্রুত অনুমোদন দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ।

এ ঘটনা কেবল একটি প্রতিবাদের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের প্রতীক। তারা শুধু উন্নত শিক্ষা চায় না, তারা চায় সম্মানজনকভাবে তা অর্জন করতে।

এই আন্দোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলে, সেখানেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today