**আলোকের খোঁজে আয়নার ঘরে আট বছরের নিঃসঙ্গতা—মীর আহমাদ বিন কাশেমের হৃদয়বিদারক বর্ণনায় কাঁদলেন কেরি কেনেডি**
ঢাকা, ১৩ মে — যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং লেখক মেরি কেরি কেনেডির সামনে আট বছরের বন্দি জীবনের ভয়াল দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মীর আহমাদ বিন কাশেম। ‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিত সেই নির্জন নির্যাতন কক্ষে তার আট বছরের অন্ধকার অতীত যেন এক করুণ ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।
১৩ মে মঙ্গলবার কাশেমকে দেখতে যান কেরি কেনেডি, যিনি আরএফকে হিউম্যান রাইটস সেন্টারের সভাপতি এবং প্রয়াত রবার্ট এফ. কেনেডির কন্যা ও জন এফ. কেনেডির ভাতিজি। সাক্ষাৎকালে মীর আহমাদ তার বন্দিত্ব, মানসিক-শারীরিক নির্যাতন এবং বিচ্ছিন্ন জীবনের ভয়াবহ স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেন। তার আবেগপূর্ণ বর্ণনায় কেরি কেনেডি নিজেও বিচলিত হয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই আবেগঘন মুহূর্তের বিবরণ দিয়ে লেখেন, “যখন কেরি কেনেডি ‘আয়না ঘর’-এ মীর আহমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন, সেই মুহূর্তটি ছিল হৃদয়কে নাড়া দেওয়া এক বাস্তবতা।”
কেরি কেনেডি বলেন, “বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হওয়া অসংখ্য মানুষের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” শেখ হাসিনার শাসনামলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তিনি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার ঘোষণা দেন।
মীর আহমাদের বর্ণনা যেন শুধু তার নয়—এটি প্রতিধ্বনিত করে বাংলাদেশের অনেক বন্দুকণ্ঠের অশ্রু আর আশার আর্তনাদ।